বৃদ্ধাশ্রম নয় বরং পরিবার ও সন্তানেরাই হোক বাবা মায়ের শেষ আশ্রয়স্থল : উপজেলা নির্বাহী অফিসার
ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা প্রতিনিধি : “বৃদ্ধাশ্রম মানে বৃদ্ধদের আশ্রয়স্থল। বর্তমান সময়ের দিকে লক্ষ্য করে বললে, বলতে হবে- বৃদ্ধ পিতা-মাতার জন্য পরিবার ও স্বজনদের থেকে আলাদা আবাস বা আশ্রয়ের নাম বৃদ্ধাশ্রম। মূলত অসহায় ও গরীব বৃদ্ধদের প্রতি করুণার বোধ থেকেই হয়ত বৃদ্ধাশ্রমের সৃষ্টি- যেখানে বৃদ্ধদের প্রয়োজনীয় সেবা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু বৃদ্ধাশ্রমের সেই ছবি এখন আর নেই। এখন যা আছে তা হল, ছোট বেলায় যে বাবা-মা ছিলেন আমাদের সবচে’ বেশি আপন, যাদের ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারতাম না, যারা নিজেদের আরাম হারাম করে আমাদের মানুষ করেছেন নিজের সব দুঃখ কষ্ট বুকে চেপে আমার হাসি মাখা মুখ দেখার জন্য যে মা ব্যকুল থাকতেন, আমি না খেলে যিনি খেতেন না, আমি না ঘুমালে যিনি ঘুমাতেন না, অসুস্থ হলে যিনি ঠায় বসে থাকতেন আমার শিয়রে, যে বাবা-মা তিলে তিলে নিজেদের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন আমাকে মানুষ করার জন্য, সেই বাবা-মায়ের শেষ বয়সের ঠিকানা এখনকার বৃদ্ধাশ্রমগুলো। মানবতার প্রতি এ এক চরম উপহাস।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়া শিববাড়ী পৌর ১নং ওয়ার্ডে বিকাল ৫টায় বৃদ্ধ সেবা বৃদ্ধাশ্রমে ইংরেজী নববর্ষ ২০২০ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে অনুভুতিগুলো ব্যক্ত করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাম কৃষ্ণ বর্মন। বৃদ্ধ সেবা বৃদ্ধশ্রমের সভাপতি ডাঃ সাহারুল ইসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে বক্তব্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহ ধর্মীনি বিন্তি রায়, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, কাটাখালী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আকন্দ, বিজয় টিভির জেলা প্রতিনিধি ডিপটি প্রধান, গোবিন্দগঞ্জ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার প্রচার সম্পাদক রেজুয়ান খান রিকন, ফুলবাড়ী ইউপি সদস্য মোস্তাফিজার রহমান মোল্লা, বৃদ্ধ সেবা বৃদ্ধাশ্রমের সাধারন সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিকসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি আশ্রিত বৃদ্ধ ও বৃদ্ধাদের মাঝে শুকনা খাবার ও কম্বল বিতরণ করেন।