মণিরামপুরে নৌকা ডুবিতে এক পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের মণিরামপুরে নৌকা ডুবিতে পারখাজুরা বাওড়ে মৌসুমী আক্তার (১৬) নামের এক দাখিল পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বাংলা ২য় পত্র রাজগঞ্জ মডেল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিতে বাড়ী থেকে বের হয়। সকাল ৯টার দিকে বাওড়ের নলতা খাটে পৌঁছুয়ে মৌসুমীসহ ১৮জন পরীক্ষার্থী বাওড় পার হতে একটি নৌকায় ওঠে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নৌকাটি কিছুদূর আসার পর ১৮ পরীক্ষার্থীসহ অন্যান্য যাত্রীদের নিয়ে ডুবে যায়। এ সময় বিভিন্ন ভাবে অন্যদেরকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মৌসুমী আক্তারকে তাৎক্ষনিক উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ডুবুরিসহ বাওড় জাল পাটি দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘন্টা উদ্ধার অভিযানের পর দুপুর দেড় টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার হয় বলে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান। মৌসুমী আক্তার পারখাজুরা সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষা দিচ্ছিলো। সে ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে। গতকাল নৌকা ডুবির খবর পেয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল খালেক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরীফি, স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। মাদ্রাসার সুপার একেএম সিফাত উল্লাহ জানান, তার মাদ্রাসা এবং পাশ্ববর্তী একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৮জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে বাওড় পারাপারের জন্য ওই নৌকায় উঠে। বাওড়ের অগভীর স্থলে পৌঁছানো মাত্রা পানির ঢেউয়ে যাত্রী বোঝায় নৌকাটি ডুবে যায়। এতে অন্যান্যদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দুপুর দেড়টার দিকে মৌসুমী আক্তারের মরদেহ করে খুলনা ডুবুরি একটি দল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরীফি জানান, সকালে দূর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ছুটে আসি পারখাজুরা বাওড়ে। সারাদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করে উদ্ধার কর্মীদের সাথে নৌকায় এই পানিতে উদ্ধার কাজে অংশ নিয়ে দুপুরের দিকে মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এক প্রশ্নের জবাবে ডুবে যাওয়া অন্য পরীক্ষার্থীরা কমবেশি অসুস্থ্য হলেও তাদের পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু হতভাগী মৌসুমী আক্তারের মৃতদেহ উদ্ধার করতে হয় দীর্ঘ সাড়ে ৪ঘন্টা অভিযানের পর। এদিকে মৌসুমী আক্তার নৌকা ডুবির মৃত্যুতে ওই এলাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
from BDJAHAN https://ift.tt/2TcG3K9
via IFTTT